মানব ফুসফুসের আস্তরণ নষ্ট করে করোনা, তাই বাড়ে শ্বাসকষ্ট, প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সি রিপোর্টে দাবি!

রাজ্যে প্রথম করোনায় মৃত ব্যক্তির শরীর ব্যবচ্ছেদ করে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে ময়নাতদন্ত করা হয়েছিল কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সি। এই ময়নাতদন্ত

করা হয় পশ্চিমবঙ্গে মরণোত্তর দেহ দান আন্দোলনের পথিকৃত ব্রজ রায়ের শরীরে। প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সির রিপোর্ট স্বাস্থ্যভবনে জমা করেছে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, করোনা সংক্রমণ কীভাবে মানুষের ফুসফুস ও কিডনির ক্ষতি

করছে। মারণ ভাইরাস শরীরে ঢুকে কীভাবে শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানুষের শ্বাসনালী দিয়ে ঢুকে ফুসফুসের আস্তরণ নষ্ট করে ফেলছে ভাইরাস। ক্ষতি হচ্ছে ফুসফুসের কোষগুলির। অক্সিজেন ঢোকা ও কার্বন ডাই অক্সাইড বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটা বাধা পাচ্ছে। সে কারণেই

রোগীর শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। একই ভাবে কিডনিরও ক্ষতি করছে করোনাভাইরাস। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফুসফুস থেকে শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়াচ্ছে ভাইরাস। ক্ষতি হচ্ছে কিডনিরও।করোনায় মৃত্যু হলে সে শরীরের কোনও ময়নাতদন্ত বা অটোপ্সি করার নিয়ম এখনও সেভাবে চালু

হয়নি দেশে। অনেক বাধা ও নিয়মের বেড়াজাল আছে। করোনা রোগীর দেহ সঙ্গে সঙ্গেই সৎকার করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সব বাধা কাটিয়ে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে প্রথম এই ধরনের ময়নাতদন্ত করা হল। করোনা সংক্রমণে তার শরীরের কোন কোন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, কোষের

ভেতরে কী কী পরিবর্তন হয়েছে, ফুসফুসে কীভাবে সংক্রমণ ছড়িয়েছে সেসবই জানা যাবে এই ময়নাতন্তে। বস্তুত, শরীরের ভেতরে করোনাভাইরাসের সম্পূর্ণ জীবনচক্র ও সংক্রমণ ছড়ানোর পথের হদিশ মিলবে এই অটোপ্সিতে। এই তথ্য গবেষণার কাজে লাগবে। সংক্রমণের উৎস কী, কীভাবে প্রতিরোধ করা যাবে, তারও হদিশ পাবেন গবেষকরা।

করোনা সংক্রমণ হলে রোগ ধরতে সিটি স্ক্যান, চেস্ট এক্স-রে, আরটি-পিসিআর বা ট্রু-ন্যাট টেস্ট ইত্যাদিতেই বেশি ভরসা রেখেছেন চিকিৎসকরা। ফুসফুসে কতটা সংক্রমণ ছড়িয়েছে তা ধরতে চেস্ট এক্স-রে করা হয়েছে। কিন্তু রোগীর মৃত্যু হলে সে শরীর নিয়ে কোনও কাটাছেঁড়া করা হয়নি।

যদিও চিনে তিনজন করোনা রোগীর শরীরে প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সি করা হয়েছিল বলে খবর। কিন্তু সে রিপোর্ট সামনে আসেনি। কয়েকটি মেডিক্যাল জার্নাল বলছে, সার্স-কভ-২ ভাইরাস সাধারণত ফুসফুসে সংক্রমণ ছড়ায় আগে। সেখান থেকে শরীরের নানা কোষে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতি হয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের। কোভিড

সংক্রমণে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধা বা মাল্টি-অর্গ্যান ফেলিওরে মৃত্যুও হয়েছে রোগীর। তার কারণ হল ভাইরাস ইমিউন কোষ ও পালমোনারি কোষগুলোকে সংক্রমিত করে নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতাটাই ধসে পড়ছে। কীভাবে শরীরের কোষগুলোকে সংক্রমিত করছে ভাইরাস সেটা জানার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিই হল এই প্যাথোলজিক্যাল অটোপ্সি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*