মাড়ি থেকে রক্তপাত হলে জেনে নিন যা করতে হবে

অনেকেই দাঁতের ব্যথা, মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হওয়ার সমস্যায় ভোগেন। মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন – মুখের যত্ন না নেওয়া, দাঁত ও মাড়ির যত্ন না নেওয়া, পাইরিয়া কিংবা স্কার্ভি, প্রভৃতি।

তাই মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ করতে এবং মাড়ি পুনরায় স্বাস্থ্যকর করে তুলতে, কিছু ঘরোয়া টোটকাও ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে দেখে নিন, মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হলে কী করবেন।

১) নিয়মিত ব্রাশ করুন

মুখ এবং দাঁতের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে, ব্রাশ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করলে, মুখ জীবাণুমুক্ত থাকে এবং দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবারও পরিষ্কার হয়ে যায়। তাছাড়া মাড়ির রক্ত ক্ষরণ, প্রদাহ এবং অন্যান্য সমস্যা রোধ করতেও, এটি অত্যন্ত সহায়ক। দু’বেলা ব্রাশ করুন।

২) লবঙ্গ তেল ব্যবহার করুন

লবঙ্গ তেলের ব্যবহার মাড়ির রক্তক্ষরণের ক্ষেত্রে, অন্যতম কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি। লবঙ্গের তেল মাড়ির প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে এবং মাড়ির রক্তক্ষরণ বন্ধ করতেও অত্যন্ত সহায়ক। একটু লবঙ্গের তেল মাড়িতে ঘষুণ অথবা দু-একটি লবঙ্গ চিবিয়ে কিছুক্ষণ মুখে রাখুন। ফল হাতেনাতে পাবেন!

৩) অ্যালোভেরা ব্যবহার করুন

অ্যালোভেরাতে প্রচুর পরিমাণে ঔষধি গুণ বর্তমান। এটি মাড়ির প্রদাহ-সহ, রক্তক্ষরণ কমাতেও অত্যন্ত সহায়ক। এক টুকরো অ্যালোভেরা নিয়ে মাড়িতে ভালভাবে ম্যাসাজ করুন এবং কিছুক্ষণ রেখে, ভাল করে মুখ ধুয়ে নিন। অ্যালোভেরা যেকোনও ধরনের ছোটোখাটো মাড়ির সমস্যা দূর করতে কার্যকর।

৪) লবণ ও জল দিয়ে ভাল করে কুলকুচি করুন

মাড়ির রক্তক্ষরণের ক্ষেত্রে, এটি একটি অন্যতম প্রতিকার। লবণে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং জীবাণুনাশক বৈশিষ্ট্য বর্তমান, যা ফোলাভাব কমানোর সাথে সাথে, মাড়ির রক্তক্ষরণ সৃষ্টিকারী সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতেও সহায়তা করে এবং মুখ জীবাণুমুক্ত রাখে। ঈষদুষ্ণ জলে সামান্য লবণ মিশিয়ে, দিনে দুই থেকে তিনবার কুলকুচি করুন।

৫) সর্ষের তেল এবং লবণ মালিশ করুন

এটি প্রদাহ কমানোর সাথে সাথে, রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ করে এবং মাড়ি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা দূর করে, মাড়িকে শক্তিশালী করে তুলতেও সহায়তা করে। সামান্য পরিমাণে সর্ষের তেল এবং লবণ নিয়ে মাড়িতে ভাল করে মালিশ করুন। কয়েক মিনিট রেখে, মুখ ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৬) মধু

সামান্য পরিমাণে মধু নিয়ে, মাড়িতে আলতো করে মালিশ করুন। মধুতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য বর্তমান, যা মাড়ির রক্তক্ষরণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে সহায়তা করে।

৭) ক্র্যানবেরি রস

ক্র্যানবেরিতে ফেনোলিক অ্যাসিড এবং anthocyanins বর্তমান। ক্র্যানবেরিতে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যও বর্তমান, যা দাঁত এবং মাড়িকে, ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থেকে মুক্ত রাখতে সহায়তা করে।

৮) হলুদ

হলুদে থেরাপিউটিক বৈশিষ্ট্য বর্তমান। এতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা মাড়ির রক্তপাত বন্ধ করতে সহায়তা করে। এটি করার ক্ষেত্রে, সামান্য হলুদ এবং সর্ষের তেল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন এবং মাড়িতে ওই পেস্টটি দিয়ে আলতোভাবে মালিশ করুন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*