মাঘের শীতে কাঁপছে কুড়িগ্রাম, আজও সর্বনিম্ন তাপমাত।

দেশের উত্তরাঞ্চলের উত্তর সীমান্ত ঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামে বিরাজ করছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এরই মধ্যে শুক্রবার কুড়িগ্রামে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার সকালেও কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখানে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকছে। এখানে মাঘ মাসের শুরু থেকেই ঠান্ডা বেড়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা নিম্নগামী থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষজনসহ গৃহপালিত প্রাণি।

এখানকার জনপদে বিকেল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখানকার জনপদ ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশার চাদরে। এ কুয়াশার অবস্থান থাকছে পরদিন দুপুর পর্যন্ত। ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিম বাতাস বয়ে যাওয়ায় তীব্র ঠান্ডায় এখানকার মানুষজন ঘরেই বেশি সময় কাটাচ্ছেন।

এখানকার হাট-বাজারগুলোতে লোক শূন্য হয়ে পড়ছে। সন্ধ্যার আগেই অনেকে হাট-বাজার থেকে চলে যাচ্ছেন নিজ বাড়িতে। এখানে শিশু-কিশোরদের মাঝে দেখা দিয়ে সর্দি-কাশির প্রার্দুভাব। ঠান্ডার তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে এখানে মানুষজন বাড়ির পাশে, রাস্তার ধারে খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করছেন।

তীব্র ঠান্ডায় মানুষজন ঘরেই বেশি সময় কাটাচ্ছেন। এখানকার হাট-বাজারগুলোতে লোক শূন্য হয়ে পড়ছে। সন্ধ্যার আগেই অনেকে হাট-বাজার থেকে চলে যাচ্ছেন নিজ বাড়িতে। এখানে শিশু-কিশোরদের মাঝে দেখা দিয়ে সর্দি-কাশির প্রার্দুভাব।

এখানে তীব্র ঠান্ডা দেখা দিলেও সরকারি বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণের তৎপরতা অপ্রতুল। সরকারি পর্যায়ে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও বেসরকারি এনজিও বা কোনো দাতা সংস্থার শীতবস্ত্র বিতরণের তৎপরতা চোখে পড়ছে না।

ঠান্ডা কাতর স্থানীয় যুবক নিরাশা মিয়া জানান, এবারের ঠান্ডা অনেক বেশি। কয়েকদিন ধরে কুড়িগ্রামে ঠান্ডা বেড়ে যাওয়ায় ছোট বাচ্চাদের ঘরে বা ঘরের বাইরে নেয়া কঠিন হয়েছে। ঠান্ডার কারণে ভালো শিশুদের জ্বর-সর্দি রোগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় গৃহবধূ আয়শা বেগম জানান, মাঘ মাসে ঠান্ডা বাড়ছে এখানে। গত ৪-৫দিন থেকে ঠান্ডা বেড়ে যাওয়ায় তারা কাজ-কাম করতে পাচ্ছেনা। ঠান্ডার কারণে প্রায় প্রতিদিনেই তাদেরকে খড়কুটো জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বৃদ্ধ পয়মুদ্দিন জানান, মাঘের ঠান্ডায় তারা কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। শীতবস্ত্র না থাকায় পরণের লুঙ্গী গায়ে জড়িয়ে ঠান্ডা নিবারণের চেষ্টা করছেন তিনি। ঠান্ডার নিবারণের জন্য যেখানে আগুনের কুন্ডলি জ¦ালাতে দেখেন সেখানে তিনি গিয়ে সামিল হচ্ছেন।

বৃদ্ধ পয়মুদ্দিন অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত তিনি সরকারি বা বেসরকারি শীতবস্ত্র পাননি। বিগত ৫ বছর আগে একটি চাদর পেয়েছেন। এখন তার ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। স্থানীয় চেয়ারম্যান হারুনের কাছে কম্বল নিতে গেছেন কিন্তু পাননি। চেয়ারম্যান বলেছেন এখন নেই। আসলে পাবেন।

মোসলেম উদ্দিন নামের এক দরিদ্র রিকশা চালক জানান, এ বছরের সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা পড়েছে। হাতপা পর্যন্ত বের করা যাচ্ছে না। দিনের বেলা কোনো রকমে চলাফেরা করা গেলেও সন্ধ্যা নামার আগেই বেড়ে যাচ্ছে কনকনে ঠান্ডার মাত্রা।

তিনি আরো জানান, ঠান্ডায় তার রিকশায় দিনেরবেলা টুকিটাকি ভাড়া মিললেও সন্ধ্যা নামার আগেই আর ভাড়া মিলছে না।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ইউসুফ আলী জানান, শুক্রবার থেকে কুড়িগ্রামে মাঘের হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বিরাজ করছে। তীব্র ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হওয়া মুশকিল হচ্ছে। তাই বাজারের প্রয়োজনীয় কাজ সেরেই সন্ধ্যার মধ্যেই বাড়ি ফিরছি।

এদিকে চলতি বোরা চারা রোপণের ভরা মৌসুম হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও কৃষকরা। কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে মাঠে খুব কষ্ট করে কাজ করতে হচ্ছে। তীব্র ঠান্ডার কারণে কৃষককে বাড়তি গুনতে হচ্ছে।

গৃহপালিত পশুর মালিকরা বিপাকে পড়েছেন গৃহপালিত পশু নিয়ে। ঠান্ডায় কাবু হওয়া পশুদের ঠান্ডা থেকে রক্ষায় পালিত পশু গরু-ছাগলের শরীরে জড়িয়ে দিতে হচ্ছে চটের বস্তা বা মোটা কাপড়।

স্থানীয় কৃষক যুবক আতাউর রহমান জানান, তীব্র ঠান্ডায় চলতি বোরো মৌসুমে বোরো চাষি জমিতে বোরো ধান চারা রোপণ করতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। এখানে তীব্র ঠান্ডায় কৃষি শ্রমিকদের ধান চারা রোপণে বিঘাপ্রতি ১ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ২০০ টাকা পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে।

ঠান্ডা প্রসঙ্গে কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, কুড়িগ্রামে কুড়িগ্রামে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শনিবার এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুড়িগ্রামে রোববারও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরো একদিন এখানে কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা নিম্নগামী থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার ৯ উপজেলায় এ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারিভাবে প্রায় ৮০ হাজার কম্বলসহ অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*